মীরসরাইয়ের মায়ানীতে অগ্নিকান্ডে ৬ বসতঘর ভস্মিভূত

নিজস্ব সংবাদদাতা, মীরসরাই, চট্টগ্রাম, ২৮ মার্চ ॥

মীরসরাইয়ে অগ্নিকান্ডে ৬ পরিবারের বসতঘর পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে গেছে। উপজেলার ১৩ নং মায়ানী ইউনিয়নের পুর্ব মায়ানী গ্রামের মনু ভুঁইয়া পাড়া এলাকার অর্জুন শীলের বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক রাত ২টায় সময় পরিকল্পিত ভাবে কে বা কারা ঘরের পিছন থেকে কোন দাহ্য পদার্থেও মাধ্যমে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ওই বাড়ির মৃত অর্জুন শীল, জয়দেব শীল, সহদেব শীল, বাসুদেব শীল, শেফালী শীল ও নীলিমা শীলের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অগ্নিকান্ডে প্রায় ১০ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। ঘটনার খবর পেয়ে রাতে মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান, মায়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির আহমেদ নিজামী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রোববার সকালে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবল চাকমা, এএসপি সার্কেল (মীরসরাই-জোরারগঞ্জ) লাবিব আবদুল্লাাহ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি উত্তম কুমার শর্মা, মীরসরাই পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।


এই বিষয়ে ১৩ নং মায়ানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদ নিজামী বলেন, এটা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অগ্নিকান্ডের ঘটনা হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোরকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মৃত অর্জুন শীলের স্ত্রী স্বপ্না শীল জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাথে স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম গংদের সাথে সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। মামলার একটি রায়ও আদালত আমাদের পক্ষে দিয়েছে। এরপর বিপক্ষের লোকেরা আপিল করেছে। কিন্তু রায় পাওয়ার পর থেকে মামলা তুলে নিতে ও জায়গা দখল নিয়ে গত বেশ কয়েক মাস ধরে বহিরাগতরা রাতে তাদের বাড়িতে ঢুকে হুমকী ধমকি দিতে থাকে। সপ্তাহখানেক আগে রাতের বেলা একদল লোক এসে তাদের বসতঘর জ¦ালিয়ে দেয়ার হুমকী দিয়ে যায়। বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় তারা ভয়ে ঘর থেকে বের হয়নি। হুমকী দেয়ার সপ্তাহ না যেতে শনিবার গভীর রাতে আবার তাদের ঘরের ছালে কে বা কারা ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে বাড়ির সবগুলো ঘরে একত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদের বাড়িতে বিদ্যুতের কোন সংযোগ নেই কিংবা কেউ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করেনা বলে দাবি করেন তিনি।
মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ মুজিবুর রহমান জানান, অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কেউ এখনও থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে পুলিশ নিজের উদ্যোগে ঘটনার তদন্ত করে যাচ্ছে। দোষীদের চিহ্নিত করে শীঘ্রই গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করা হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তার সূত্রে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে ধারণা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মীরসরাই উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ সরকার এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, মানুষের সাথে মানুষের বিরোধ থাকতেই পারে। তাই বলে মধ্যযুগীয় কায়দায় রাতের আঁধারে আগুন লাগিয়ে বসতঘর জ্বালিয়ে দেয়া মেনে নেয়া যায় না। নিন্দা জানিয়ে দোষীদের শান্তি দাবি করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ মীরসরাই উপজেলা শাখাসহ বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।