মীরসরাইয়ের বিভিন্ন স্থানে রথযাত্রা পালিত

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥
যথাযোগ্য ধর্মীয় আচারানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মালম্বীরা পালন করছেন ভগবান শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রানুষ্ঠান। পবিত্র এই রথযাত্রা পালিত হয় মীরসরাইয়ের বিভিন্ন স্থানে। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) বিকাল ৪টায় বিপুল সংখ্যক ভক্তের অংশগ্রহণে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে মীরসরাইয়ের আবুতোরাব, মিঠাছরা, জোরারগঞ্জ, চৈতন্যেরহাটসহ বিভিন্ন স্থানে রথযাত্রা পালিত হয়।
জোরারগঞ্জ রথযাত্রা কমিটির সভাপতি বাবুল সেন জানান, প্রতি বছরের মতো এবারো যথাযোগ্য মর্যাদায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রথযাত্রা পালিত হয়েছে। হাজার হাজার ভক্তের অংশগ্রহণে রথযাত্রা উৎসবে পরিণত হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগীতায় স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে সুন্দর সুষ্ঠু ভাবে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, রথযাত্রা আর্যজাতির একটি প্রাচীন ধর্মোৎসব। কিন্তু এখন রথযাত্রা বললে সাধারণত জগন্নাথদেবের রথযাত্রাকেই বোঝায়। কিন্তু একসময় ভারতবর্ষে সৌর, শক্তি, শৈব, বৈষ্ণব, জৈন, বৌদ্ধ সব ধর্ম-সম্প্রদায়ের মধ্যে স্ব স্ব উপাস্যদেবের উৎসববিশেষে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হতো।
প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ ব্রহ্মাপুরাণ এবং পদ্মপুরাণ-এও এ রথযাত্রার উল্লেখ পাওয়া যায়। পুরুষোত্তম মাহাতো জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ কেমন হবে, সে সম্পর্কে বলা আছে। বিষ্ণুধর্মোত্তরে একই রথে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা এই মূর্তিত্রয়ের স্থাপন নির্দেশ থাকলেও পুরুষোত্তম মাহাতো ও নীলাদ্রি মহোদয়ের পদ্ধতি অনুসারে পুরীধামসহ তিনজনের জন্য তিনটি বৃহৎ রথ প্রস্তুত হয়ে থাকে।
উৎকলখন্ড এবং দেউলতোলা নামক উড়িষ্যার প্রাচীন পুঁথিতে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার ইতিহাস প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে সত্যযুগে অবন্তীনগরী রাজ্যে ইন্দ্র নামে সূর্যবংশীয় এক পরম বিষ্ণুভক্ত রাজা ভগবান বিষ্ণুর এই জগন্নাথরূপী মূর্তির রথযাত্রা শুরু করার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে রাজা ই›ন্দ্রপুরীর এই জগন্নাথ মন্দির নির্মাণ ও রথযাত্রার প্রচলন করেন। একসময়ে ইউরোপেও যে রথযাত্রা প্রচলিত ছিল, তারও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
রথযাত্রা শুধু ধর্মীয় উৎসবই নয় এর সঙ্গে সামাজিক বন্ধনেরও একটা শিক্ষা রয়েছে। সহ¯্র মানুষের সমবেত শক্তিতে অচল রথ সচল হয়, এই সত্যটা রথযাত্রার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।