করোনায় খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষিই প্রধান অবলম্বন

আনোয়ারুল হক নিজামী॥

কবি রাজিয়া খাতুন চৌধুরাণী’র কবিতায় কৃষকদেরকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্ছ গুরুত্ব দেশের সাধক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি লিখেছেন, সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা, দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।” প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনৈতি থমকে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশেও তার বাহিরে নয়। কাজ হারিয়ে দিশেহারা মানুষ। কৃষি প্রধান বাংলাদেশে কৃষির উপর নির্ভরশীল প্রায় ৬৫% কৃষক বিগত ১ যুগ ধরে ফসলের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেকেই কৃষি বিমুখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক ক্ষুদ্রার্ত মানুষের ধারা জনপ্রতিনিধিদের গণধোলাই, রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল, ত্রাণের ট্রাক লুট, ভবিষ্যৎতের খারাফ বার্তা বহন করছে।

কৃষিকাজে সম্পৃক্তদের (৬৫%) তুলনায় দিনমজুর, রিকশাচালক, কারখানা শ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাঁ কর্মী জানায়, চলতি মাসে তাদের আয় নেমে এসেছে শূন্যের কোটায়। দেশব্যাপী কাজ হারানো এবং খাদ্য সংকটে পড়া এসব মানুষের কাছে অতি শিগগির খাদ্য পৌঁছাতে হবে, নয়তো তাদের ঘরে রাখা সম্ভব হবে না। জীবিকা অর্জনে তারা বাইরে বের হতে বাধ্য হবে।

বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীরও নজর এড়ায়নি, সেটি বোঝা যায় গত ৬ এপ্রিল দেওয়া তাঁর বক্তব্য থেকে। চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৫ জেলার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি সেফটিনেটের বাইরে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, যাদেরকে আমরা সামাজিক নিরাপত্তায় সাহায্য দিচ্ছি তার বাইরে যারা আছে, যারা হাত পাততে পারবে না তাদের তালিকা করে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকারের হাতে খাদ্যমজুদের তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে, মানুষের জন্য কতদিন খাবার পৌঁছে দেয়া যাবে? তাছাড়া শুধু খাদ্য দিলেই তো হবে না।

প্রয়োজন হলে যে দেশের বাইরে থেকে খাদ্য আমদানি করা হবে, সেটাও সম্ভব না। কারণ করোনাভাইরাস সারা পৃথিবীতেই আক্রমণ করেছে। ফলে খাদ্য সংকট সবখানেই কমবেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই এখন মানুষ অর্ধাহারে বা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। অনেক স্থানেই পকেটে টাকা নিয়ে মানুষ ঘুরছে কিন্তু প্রয়োজনীয় খাবার পাচ্ছে না। দিন দিন এই সংকট বাড়বে। এই দুরঅবস্থায় নিজ দেশের মানুষকে অভুক্ত রেখে কেউ অন্যদেশে খাদ্য রফতানি করবে না।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে, যেসব দেশ আগে খাদ্য রফতানি করত তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে তা স্থগিত করেছে। জরুরি অবস্থা চলাকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর বাইরে খাদ্য রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে দেশে দেশে খাদ্যশস্য নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে আতঙ্কজনিত অস্বাভাবিক ক্রয়প্রবণতা। বন্দরগুলোতেও কার্যক্রম প্রায় স্থবির। এ অবস্থায় রফতানি নিষিদ্ধের মাধ্যমে অতীতে বৈশ্বিক খাদ্যশস্য সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল, তা-ই অনেক বড় ও বিস্তৃত আকারে দেখা দেয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভিয়েতনামও বর্তমানে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় চাল রফতানিতে নতুন সরবরাহ চুক্তিগুলোর ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ আরোপ করেছে। চালের আরেক বৃহৎ রফতানিকারক দেশ ভারতও এখন পণ্যটি রফতানি স্থগিত রেখেছে। অন্যতম বৃহৎ গম রফতানিকারক দেশ কাজাখস্তান ও রাশিয়া বর্তমানে রফতানি সীমিত করে আনার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে পেঁয়াজ, চিনি, সূর্যমুখী তেলের মতো পণ্য রফতানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাখে।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘও। জাতিসংঘের বক্তব্য হলো, দেশগুলোর উচিত এখন ‘প্রতিবেশীদের ভিখারি বানানোর’ নীতি পরিহার করা। এদিকে সাম্প্রতিক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান মহামারীর কারণে বিশ্বব্যাপী বিপুলসংখ্যক মানুষ কাজ হারাতে পারে। ব্যাঘাত ঘটতে পারে শ্রম ব্যবস্থায়। ফলে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার প্রকোপ অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই বেড়ে দ্বিগুণ হতে পারে। এর আগে ২০০৭ সালেও বৈশ্বিক আর্থিক মন্দার ধারাবাহিকতায় ভারত ও ভিয়েতনামসহ বেশ কয়েকটি দেশ খাদ্যশস্য রফতানির ওপর স্থগিতাদেশ আরোপ করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতি সে সময়ের চেয়েও অনেক জোরালো ও জটিল। এ অবস্থায় অদূর ভবিষ্যতে সংকটের মাত্রা কোথায় দাঁড়াতে পারে, তা নিয়ে অনেক ধরনের শঙ্কাজনক পূর্বাভাস রয়েছে।

এ অবস্থায় আমাদের নির্ভর করতে হতে পারে আমাদের কৃষিব্যবস্থা এবং কৃষকদের উপরই। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতি আমাদের কৃষি ও কৃষককেও আক্রমণ করেছে। পরিবহন ব্যবস্থা সীমিত হয়ে পড়ায় দেশের নানা প্রান্তে কৃষকদের উৎপাদিত কাঁচা সবজির মূল্য কমে গেছে। লকডাউনের ফলে অনেক ক্ষেত্রে বিক্রিই করতে পারছে না কৃষকরা। হতাশ হয়ে কোথাও কোথাও শাক-সবজি গরু দিয়ে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছে তারা। নতুন করে চাষাবাদ করতেও পারছে না শ্রমিক সংকটের কারণে। আবার লকডাউনের কারণে ডিজেল সংকটে সময় মতো অনেক জমিতে সেচ দেওয়ায় সম্ভব হচ্ছে না। লকডাউনের ফলে বাজারে মাছের খাবারের মূল্যও বেড়ে গেছে। ফলে উভয় সংকটে পড়েছেন মৎস্য চাষিরা। মানুষের পুষ্টির অন্যতম উপাদান দুধ, ডিম এবং মুরগি উৎপাদনকারী খামারিরাও রয়েছেন বিপাকে। মিল কারখানা বন্ধ থাকার কারণে দুধের বিক্রি কমে গেছে। কোথাও কোথাও পানির চেয়েও কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে গরুর দুধ। নানা রকম গুজবের কারণে মুরগি, মুরগির ডিম বিক্রিতেও নেমেছে ধস। এখন আউশ ধানের পর আমন মৌসুম শুরু হবে। সাধারণত এটাই কৃষকদের প্রধান ফসল।

অঘোষিত লকডাউন যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পুরো হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাস্তবোচিত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষক, শ্রমিক, সর্বোপরি খাদ্যসংকটে পড়তে পারে পুরো জাতি।
তাই শুধু অনুরোধ নয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কৃষক কীভাবে তাদের ধান উৎপাদন করে ঘরে তুলতে পারেন, দেশের মানুষের খাদ্যঘাটতি পূরণে সহায়তা করতে পারেন সে ব্যাপারে সব ধরনের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে। অন্যথায় দেখা যাবে, পরিকল্পনা আর উদ্যোগ নিতে নিতেই সময় ফুরিয়ে যাবে, তখন হয়তো বেশি কিছু করাও সম্ভব হবে না। বোরো ফসলের পর আউশের চাষ। আমাদের দেশে আউশের চাষ তুলনামূলক কম হয়। এবার করোনাজনিত সঙ্কট কাটাতে হলে আউশের চাষ বাড়াতে হবে। প্রশ্ন হচ্ছে, কৃষকের কাছে বেশি পরিমাণ বীজ আছে কিনা। ধান ছাড়াও সবজি বা ফলের চাষ বাড়াতে হবে। এই সময়টায় কৃষক কোন জমিতে কী ধরনের ফসল করতে পারে এ বিষয়ে কৃষককে সচেতন ও পরামর্শ প্রদান করতে হবে।

ভালো বীজ, সার, সেচ ও বালাইদমন ব্যবস্থাপনাসহ সকল বিষয়ে কৃষকের চাহিদা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বের পারস্পরিক যোগাযোগ বলা চলে একরকম বন্ধই। বন্ধ বিশে^র অনেক দেশের কলকারখানা। কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সারের সংকট হতে পারে কিনা তাও ভেবে দেখতে হবে। এ সংকটের কথা মাথায় রেখে কৃষককে এখনই প্রস্তুত করতে হবে জৈবসার তৈরির বিষয়টিতে। কৃষককে সচেতন করতে স্বাস্থ্য ও কৃষি তথ্য কৃষকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে সমন্বিত ভূমিকা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে কৃষিতে কাজে লাগানো যায়, সে পরিকল্পনা দ্রুতই গ্রহণ করতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষকদের একটা বড় অংশ মহাজন, এনজিও, কৃষি ব্যাংকসব বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে সাধারণত চাষাবাদ করে থাকেন, মৎস্য চাষ করে থাকেন। কিন্তু এখন করোনাকারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তাদের সেসব ঋণ বা ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে সে দিকেও সরকারকে নজর দিতে হবে। করোনাকারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারের এখন প্রধান টার্গেট হওয়া উচিৎ কৃষি এবং কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানো। উৎপাদিত কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাসহ তা সংগ্রহ করে সারাদেশের মানুষের মাঝে সুষম বণ্টনের ব্যাপারেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। মনে রাখতে হবে, করোনাকারণে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় কৃষিই আমাদের প্রধান হাতিয়ার।

দেশের ক্রান্তিকালে জরুরি সেবা বলতে যা বোঝায় প্রশাসন বা পুলিশ সম্ভবতঃ বোঝেই না বা বুঝতে চায় না। করোনা কালে বা করোনা পরবর্তী কালে মানুষ সহ অন্যান্য সকল জীবের খাদ্য প্রয়োজন। সেই খাদ্য উৎপাদন এর সাথে যারা জড়িত তাদের হেনস্তা করে যাচ্ছেন খোদ প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিগন।

কৃষি পন্য উৎপাদনে বালাইনাশক, সার, বীজ কোম্পানির প্রতিনিধি এবং সরকারের কৃষি বিভাগের লক্ষ্য উদ্দেশ্য একই কিন্তু পদ্ধতিতে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে। সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইস্যুকৃত সার্কুলার অন্যুায়ী বালাইনাশক জরুরি পন্য এবং বালাইনাশক ব্যবসায়ী, এর সাথে জড়িত সকল কর্মকর্তা কর্মচারী সবাই জরুরী সেবার অন্তর্ভুক্ত।

অথচ নিজেদের গাড়িতে জরুরি কৃষিসেবা লিখবার পরও গাড়ি থামিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে। আইডি কার্ড দেখানোর পরও খারাপ ভাষার ব্যবহার করে। এতেই ক্ষান্ত হয়না লাঠি দিয়ে আঘাত করবার উদাহরণ দৃশ্যমান। বাড়িওয়ালা দুরের কর্মজীবী মানুষকে বাসা ছেড়ে দেবার নোটিশ করছেন। না ছাড়লে বাসায় তালা লাগাচ্ছেন। অনেক এলাকায় বাঁশ লাগিয়ে পাড়া-মহল্লায় রাস্তা বন্ধ করা হচ্ছে।

বালাইনাশক কোম্পানিগুলো কি বালাইনাশক ডেলিভারি বন্ধ করে দিবে। দিলে ফসলের কি অবস্থা হবে? যদি বালাইনাশক কোম্পানির কর্মকর্তা কর্মচারী নিরাপত্তা না পায় তাহলে বালাইনাশক সরবরাহ বন্ধ করেই দিতে হবে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে। যাতে কৃষি ও কৃষক বিপাকে না পরে তার জন্য বালায়নাশক বিক্রয় প্রতিনিধিরা জীবনের চরম ঝুকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আর লান্চিত হচ্ছে অনেকাংশেয়।

১কেজি ধান উৎপাদনে ১৭-২২ টাকা পর্যন্ত খরচ হয় অথচ সেই ধান বিক্রি করছে ১১-১৪ টাকা। আপরদিকে সবজি চাষেও অনেক সময় একই অবস্থায় দেখা যায়। কোন দুঃখে কৃষক ফসল উৎপাদন করবে।
নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রভাব যদি সেপ্টেম্বর – অক্টোবর পর্যস্ত থাকে তাহলে দেশে খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা থাকে। ৩য় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন মনে করে অতি উৎসাহি মানুষেরা দেশের বিভিন্ন পাড়া, মহল্লা, গ্রাম, বাজার লকডাউন করে নানা ধরনের ভোগান্তির মধ্যে ফেলছে কৃষক ও জনগনকে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসল উৎপাদনে। এমনি মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্মায় কৃষক উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম না পেয়ে অনেকে কৃষি কাজ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। এবার বোরে চাষে সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। য়ে ডিলার ২৭ টন ধান বীজ বিক্রি করতো সে, ৭ টন বিক্রি করতে কষ্ট হয়েছে। বিশ্বের এই ক্রান্তি লগ্নে দেশেই উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের প্রণোদনা দিয়ে সরকারী বেসরকারি কৃষি সংশ্লেষিত সকল প্রতিষ্ঠান একযোগে কাজে লাগাত হবে।

আইনশৃংখলা বাহিনী সদস্যদের কৃষি মন্ত্রনালয় ও খামারবাড়ি চিঠি দেখানোর পরও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের হয়রানি অভিযোগ রয়েছে। সরকারী জনবলের সুবিধা প্রান্তিক কৃষক কতটুকু পেয়ে থাকে? ১ টা ইউনিয়নে খুচরা, পাইকারি বালাইনাশকের ২০/২৫ টা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে যদি ৩০০০ কৃষক কৃষি পন্য ব্যবহার করে ২/৩ জন উপ- সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কতটুকু সেবা দিতে পারবে?

যদি কৃষক সঠিক মাত্রায় সঠিক সময়ে সঠিক কীটনাশক ব্যাবহার না করে বা ভুল প্রয়োগে ফসল জ্বলে যেতেই পারে। যেমন পাইরাজোসালফুরান- ইথাইল, প্যারাকোয়াট, গ্লাইফোসেট, বেনসালফিরন, এসিটাফ্লোর, অক্সাডায়জন, ট্রাইসাইকোজন, এজোক্সিস্ট্রোবি+ ডাইফেনোকোনাজল, ছত্রাকনাসক জাতীয় গ্রুপের কীটনাশক ভুল প্রয়োগে ফসল জ্বলে যেতে পারে। ব্লাস্টের ক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবহারে ফল হবে উল্টো। সকল দিক বিবেচনা করে আউশ আমনের উৎপাদন বাড়াতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শতভাগ লকডাউনের আওতামুক্ত রাখুন।

লেখক ও সংবাদকর্মী।