ইউপি নির্বাচনে ‘উন্মুক্ত’ হচ্ছে আ.লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি

নিজস্ব সংবাদদাতা ::::
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী সবার কাছেই দলীয় ফরম বিক্রি করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অভ্যন্তরীণ বিভেদ এড়াতে এবং যোগ্য প্রার্থী নিশ্চিতে পৌরসভার পর ইউপিতেও দলীয় ফরম বিক্রির শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী সবার নাম সভার কার্যবিবরণীতে যুক্ত করে কেন্দ্রে পাঠাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এর বাইরেও যদি কেউ আগ্রহ প্রকাশ করেন তবে তিনি কেন্দ্রীয় ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সুপরিশে দলীয় ফরম কেনার সুযোগ পাবেন।

প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভিড় বেশি থাকায় ফরম সংগ্রহ ও জমাদানের সময়ও বাড়ানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে ও দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বুধবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, অনেক জেলা থেকে রেজুলেশন পাঠাতে দেরি করছে। আপাতত সেই সব জেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা ফরম কিনতে এসেছে তাদের সবাইকেই ফরম দেয়া হচ্ছে। আমরা চাই না দলের যোগ্য একজন ব্যক্তিও মনোনয়ন ফরম তোলা থেকে বঞ্চিত হন। ফলে কোনো কারণে কারও নাম রেজুলেশনে না এলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের সুপারিশে তারাও আওয়ামী লীগের ফরম কিনতে পারবেন। তবে তৃণমূল থেকে পাঠানো রেজুলেশনের গুরুত্ব কিন্তু কমছে না। সবকিছু বিবেচনা ও পর্যালোচনা করেই দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে ত্যাগী ও যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ২৮(৩)(ঙ) অনুযায়ী আগ্রহী প্রার্থীদের প্যানেল তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বর্ধিত সভার আয়োজন করবে এবং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রার্থীদের একটি প্যানেল সুপারিশের জন্য কেন্দ্রে প্রেরণ করবে। প্যানেলটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের (৬ জন) যুক্ত স্বাক্ষরে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠাতে বলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, নিয়মানুযায়ী কমপক্ষে তিনজনের নাম পাঠাতে হবে। আমি বলেছি, এর বেশি পাঠালেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বিক্রির সঙ্গে যুক্ত সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা বুধবার দুপুরে জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নিয়ে যারাই আসছেন তাদের সবার কাছেই আমরা মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছি।

৫ মার্চ (শুক্রবার) থেকে দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। বুধবার ছিল এই মনোনয়ন বিক্রির শেষ দিন। এদিন দুপুরে সরেজমিন দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় গিয়ে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আগত মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকদের পদচারণায় মুখরিত ধানমন্ডি এলাকা।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হওয়ায় গ্রামগঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় সম্ভাব্য প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা শুরু হয়েছে। প্রতিটি ইউপিতেই কমপক্ষে পাঁচ থেকে দশ বা তারও অধিক দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। সভা-সমাবেশ বা উঠান বৈঠক করে তারা জানান দিচ্ছেন প্রার্থিতা। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে। সবর প্রচারণা চালাচ্ছেন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দলীয় প্রতীক পেতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ করছেন তারা। এদিকে এ নির্বাচনে বিএনপি না এলেও এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে আওয়ামী লীগের। দলটির নেতারা বলছেন- দলীয়ভাবে বিএনপি নির্বাচন না করলেও দলটির স্থানীয় নেতারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। তাই আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী দিয়েই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।